রবিবার, ০৪ জানুয়ারী ২০২৬, ০১:২৫ পূর্বাহ্ন

বাহুবলে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কর্মসংস্থান, যোগাযোগ ও পর্যটনে সমন্বিত উদ্যোগের দাবি

নুরুল ইসলাম মনি, নিজস্ব প্রতিবেদক: শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কর্মসংস্থান, যোগাযোগ ও পর্যটন খাতে পরিকল্পিত উন্নয়ন ছাড়া বাহুবল উপজেলার সার্বিক অগ্রগতি সম্ভব নয় এমন মত দিয়েছেন স্থানীয় সচেতন মহল। ভৌগোলিক ও অর্থনৈতিক সম্ভাবনা থাকা সত্ত্বেও দীর্ঘদিনের অবহেলায় উপজেলার বিভিন্ন খাতে কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন ব্যাহত হচ্ছে।

শিক্ষা খাতে প্রয়োজন ব্যাপক সম্প্রসারণঃ
বাহুবলের সাতকাপন, লামাতাসী ও ভাদেশ্বর ইউনিয়নে তিনটি সরকারি কলেজ স্থাপনের দাবি উঠেছে। পাশাপাশি উপজেলা সদরে একটি সরকারি পলিটেকনিক বা টেকনিক্যাল স্কুল অ্যান্ড কলেজ এবং একটি ফাজিল/কামিল মাদ্রাসা স্থাপনের প্রয়োজনীয়তা রয়েছে। এছাড়া উচ্চশিক্ষার সুযোগ নিশ্চিত করতে একটি পূর্ণাঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের দাবিও জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

এদিকে উপজেলার যেসব গ্রামে এখনো কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নেই, সেখানে প্রাথমিক বিদ্যালয় বা এবতেদায়ী মাদ্রাসা স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।

স্বাস্থ্যসেবায় অব্যবস্থাপনা, ভোগান্তিতে সাধারণ মানুষঃ
কাগজে-কলমে বাহুবল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ৫০ শয্যায় উন্নীত হলেও বাস্তবে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক, নার্স ও সাপোর্ট স্টাফের অভাবে কাঙ্ক্ষিত সেবা মিলছে না। প্রয়োজনীয় জনবল ও আধুনিক যন্ত্রপাতি সরবরাহের মাধ্যমে হাসপাতালের স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম জোরদারের দাবি উঠেছে।

এছাড়া ২০১৩ সালে নির্মিত ১০ শয্যার ট্রমা সেন্টারটি এখনো চালু না হওয়ায় কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত অবকাঠামো ও যন্ত্রপাতি নষ্ট হচ্ছে। প্রশাসনিক জটিলতা নিরসন করে ট্রমা সেন্টারটি চালু করা গেলে শুধু বাহুবল নয়, পুরো সিলেট বিভাগের মানুষ উপকৃত হবেন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

কর্মসংস্থানে স্থানীয়দের অগ্রাধিকার চাওয়াঃ
দেশের বৃহত্তম রশিদপুর গ্যাস ফিল্ড, ১০টি চা বাগান, এশিয়ার বৃহত্তম রূপাইছড়া সরকারি রাবার বাগানসহ অসংখ্য শিল্পকারখানা বাহুবল উপজেলায় অবস্থিত। এসব প্রতিষ্ঠান পরিবেশ, জনস্বাস্থ্য ও অবকাঠামোর ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেললেও স্থানীয় উন্নয়নে পর্যাপ্ত বিনিয়োগ করছে না—এমন অভিযোগ রয়েছে।

স্থানীয়দের দাবি, এসব প্রতিষ্ঠানকে স্থানীয় জনগণের কর্মসংস্থানে অগ্রাধিকার দিতে হবে এবং সামাজিক দায়বদ্ধতার অংশ হিসেবে এলাকার উন্নয়নমূলক কাজে বিনিয়োগ বাড়াতে হবে।

যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন জরুরিঃ
ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক ও রেলপথ অধ্যুষিত হওয়া সত্ত্বেও বাহুবলের গ্রামীণ সড়কগুলোর অবস্থা নাজুক। গ্রামীণ সড়ক উন্নয়নের পাশাপাশি মহাসড়কের দুর্ঘটনা ঝুঁকি কমাতে মিরপুর থেকে আউশকান্দি পর্যন্ত মহাসড়ক ঘেঁষে একটি পৃথক আঞ্চলিক সড়ক নির্মাণের প্রস্তাব দিয়েছেন স্থানীয়রা।

পর্যটন সম্ভাবনা কাজে লাগানোর আহ্বানঃ
পাহাড়, চা বাগান, রাবার বাগান ও ঘুঙ্গিয়াজুরি হাওর নিয়ে বাহুবল একটি সম্ভাবনাময় পর্যটন এলাকা। বিশেষ করে ভাদেশ্বর ইউনিয়নের কামাইছড়া থেকে মুছাই পর্যন্ত এলাকা প্রাকৃতিক বৈচিত্র্যে ভরপুর। তবে নিরাপদ পর্যটন স্পট ও সুযোগ-সুবিধার অভাবে পর্যটকরা ভোগান্তিতে পড়েন।

এ অঞ্চলের মধ্যবর্তী স্থানে অবস্থিত ঐতিহাসিক ‘ফয়জাবাদ বধ্যভূমি’কে কেন্দ্র করে সরকারি উদ্যোগে অবকাঠামো ও সুযোগ-সুবিধা গড়ে তোলার দাবি উঠেছে। এতে পর্যটন শিল্পের বিকাশের পাশাপাশি স্থানীয় ব্যবসা-বাণিজ্যেরও প্রসার ঘটবে।

কৃষি ও প্রবাসী কল্যাণে বিশেষ উদ্যোগের দাবিঃ
বাহুবলের অধিকাংশ মানুষ কৃষিজীবী ও প্রবাসী। কৃষকদের ধান ও সবজির পাশাপাশি লেবু, আনারস, কাঁঠালসহ ফলমূল চাষে দক্ষ করে তুলতে একটি পূর্ণাঙ্গ কৃষি প্রশিক্ষণ একাডেমি স্থাপন এবং সহজ শর্তে কৃষিঋণের ব্যবস্থা করার দাবি জানানো হয়েছে।
এছাড়া প্রবাসে যেতে আগ্রহীদের দক্ষ জনশক্তিতে রূপান্তরের লক্ষ্যে একটি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র এবং প্রবাসীদের খোঁজখবর ও কল্যাণ নিশ্চিত করতে প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের একটি স্থানীয় ডেস্ক স্থাপনের আহ্বান জানানো হয়েছে।

স্থানীয়দের মতে, এসব উদ্যোগ বাস্তবায়ন করা গেলে বাহুবল উপজেলা টেকসই উন্নয়নের পথে এগিয়ে যাবে এবং সাধারণ মানুষের জীবনমানের উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন আসবে।

দয়া করে নিউজটি শেয়ার করুন

ওয়েবসাইটের কোন কনটেন্ট অনুমতি ব্যতিত কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি।
Design & Developed BY ThemesBazar.Com